Posted by S21H on Mar 20, 2018

মোর্স কোড

মোর্স কোড

অনেক দিন আগের কথা কোনো একদিন রেডিওতে ভয়েস অফ আমেরিকা শুনার জন্য রেডিও টিউন করসিলাম
তখন রেডিওতে টিট টুইট করে শব্দ হচ্ছিলো অনর্গল।তখন ভাবতাম এটা কি ধরণের সিগন্যাল? এগুলির কি দরকারসিলো।
দরকার ছিল বলেই তারা এই সিগন্যাল ট্রান্সমিট করতো আর এর নাম হলো মোর্স কোড।
আন্তর্জাতিক মোর্স কোড ১৮৪০ সালে মোর্স কোড আর উদ্ভাবন প্রথম ট্রান্সমিট করা হয়। আর এই তরঙ্গর নাম মোর্স কোড হয় স্যামুয়েল মোর্স এর নাম থেকে।
মোর্স কোড কোন ভাষা বা বর্নকে কোডে রুপান্তর করার একধরনের পদ্ধতি যা এক ধরনের ছন্দের মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অণ্য প্রান্তে যোগাযোগ করা হয়। স্যামুয়েল মোর্স ১৮৪০ সালে মোর্স কোড ইদ্ভাবন করেন যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের সাহায্যে ব্যবহার হয় ,যাকে আমরা টেলিগ্রাফ যন্ত্র বলি ।

মোর্স কোড কোন বর্ণের “সংক্ষিপ্ত (.)এবং দীর্ঘ (-)” রূপ এ মাধ্যমে সংকেত প্রকাশ করা হয় । এজন্য কোন বার্তা প্রেরণ করার জন্য “সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘ” এ দুটি রূপের এক ধরনের ছন্দ বা পর্যায়ক্রম , যার কারণে কোন তথ্যের বর্ন, সংখ্যা, সংকেত ,ইঙ্গিত ইত্যাদিকে উপস্থাপন করা হয় ।

এতে এই “সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘ” উপাদান হিসেবে শব্দ, চিহ্ন, স্পন্দন, কোন যন্ত্রের সুইচ অন বা অফ এবং সাধারনভাবে ব্যবহৃত “ডট(ডিট)” এবং “ড্যাশ(ডাহ্)” ইত্যাদি ছাড়াও আরো অসংখ্য জিনিস ব্যবহার করা যেতে পারে। “ওয়ার্ড পার মিনিট” হিসাবে মোর্স কোড হিসাব করা হয়ে থাকে।

ব্যবহার[সম্পাদনা]
রেডিও যোগাযোগের জন্য প্রথম দিকে মোর্স কোড ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হত। এমন কি বিংশ শতাব্দির প্রথম দিকেও টেলিগ্রাফ লাইন, সমূদ্রের নীচের কেবল এবং রেডিও সার্কিটে দ্রুতগতির যোগাযোগ মোর্স কোডের মাধ্যমে করা হত।
পেশাগত ভাবে পাইলট, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনকারী, জাহাজের ক্যাপ্টেন,
সামুদ্রিক স্টেশন চালনাকারীদের মোর্সকোডে খুবই ভাল দক্ষতা থাকতে হয়।

আকাশে বিমান চালানোর সুবিধার্থে গঠিত বিভিন্ন বেইজ স্টেশন যেমন VHF Omni-directional Radio Range (VORs);
Non-Directional Beacon (NDB) আকাশে চলমান বিমানের বিভিন্ন সমস্যা
সমাধানে জন্য প্রতিনিয়ত নিজেরদের অস্তিত্ত্ব জানান দিতে মোর্স কোডের ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল কমিউনিকেশন কমিশন এখনো সামুদ্রিক যোগাযোগের জন্য মোর্সকোড ব্যবহার করে।

মোর্স কোডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি নানারকম ভাবে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা যায়। শব্দ, চিহ্ন, পাল্স, রেডিও সিগনাল, রেডিও অন অফ, আয়নার আলো, লাইট অন অফ ইত্যাদি নানা উপায়ে মোর্সকোডের মাধ্যমে তথ্য প্রেরন করা যায়। একারণেই S O S মেসেজ পাঠানোর জন্য মোর্স কোড সবচেয়ে উপযোগী।

উপাদান[সম্পাদনা]
সাধারণত দুটি উপাদানের মাধ্যমে কিছু প্রকাশ করতে আরও তিনটি উপাদান দরকার হয়। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে কিছু প্রকাশ করতে প্রকৃতপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার। উপাদানগুলো নিম্নে দেয়া হল :

( . ) যাকে ‘ডট’ বা ‘ডিট’ বা ‘টরে’ বলে।
( -) যাকে বলে ‘ডেশ’ বা ‘ ডাহ্’ বা ‘টক্কা’।
ডট এবং ডেশের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান। (ফাঁকা স্থানটাই উপাদান)
দুটি বর্ণের মধ্যের ফাঁকা স্থান।
দুটি শব্দের মধ্যের ফাঁকা স্থান।
উপরিউক্ত উপাদানগুলোই বিভিন্ন বিন্যাসে ব্যবহার করে মোর্স কোডের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়। মোর্সকোডের উপাদান পাঁচটি হলেও যেহেতু এর মূল উপাদান দুটি তাই একে বাইনারির মাধ্যমও প্রকাশ করা যায়।

 

Please follow and like us:
Post a Comment

Leave a Reply

Translate »
%d bloggers like this: