Posted by admin on May 21, 2020
বেতার তরঙ্গ

বেতার তরঙ্গ

বেতার তরঙ্গ

বেতার তরঙ্গ

‘ক’ কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শুনছিলাম। ঘোষিকা জানালেন, ‘অনুষ্ঠান শুনছেন চারশো ছাপান্ন দশমিক ছয় মিটার অর্থাৎ ছশো সাতান্ন কিলোহারৎস্‌-এ। ‘অর্থাৎ’ কথাটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আসলে, তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্ক পরস্পর সম্পর্কিত — যেন একই টাকার এপিঠ আর ওপিঠ।

 

ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। বেতার তরঙ্গ এগিয়ে চলে আলোর বেগে।তরঙ্গধর্ম অনুযায়ী তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্কের গুণফল তরঙ্গবেগের সমান। তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে কম্পাঙ্ক হয় কম আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে কম্পাঙ্ক হয় বেশি, কেননা উভয়ের গুণফল তরঙ্গবেগের (এক্ষেত্রে আলোর বেগের) সমান। একটি জানলে অন্যটি সহজেই নির্ণয় করা যায় — যেভাবে স্কুলের নীচু ক্লাসে দুটি সংখ্যার গুণফল ও একটি সংখ্যা প্রদত্ত থাকলে অন্যটি বের করতাম, ঠিক সেই কায়দায়! বেতার তরঙ্গের প্রসঙ্গ যখন উঠলোই তখন জানিয়ে দিই, তড়িৎ – চুম্বকীয় তরঙ্গ মহাপরিবারের যেসব সদস্যের কম্পাঙ্ক 150 থেকে 30,000 কিলোহারৎস্‌ – এর মধ্যে, বিজ্ঞানীরা তাদেরকেই বেতার তরঙ্গ পরিবারের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। একই ফ্যামিলির মেম্বার হলেও বিভিন্ন কম্পাঙ্কের বেতার তরঙ্গের হালচালে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এমনকি, এগিয়ে চলার ভঙ্গিতেও রয়েছে পার্থক্য। চলার স্টাইলে কেউ ‘পদাতিক’, কেউবা আবার ‘লং জাম্পার’! লং ওয়েভ ও মিডিয়াম ওয়েভ এগিয়ে চলে পৃথিবীপৃষ্ঠ ধরে। তাই এদের বলা হয় ‘গ্রাউন্ড ওয়েভ’। পক্ষান্তরে, শর্ট ওয়েভকে বলা হয় ‘স্কাই ওয়েভ’ কেননা এরা মাটির মায়া কাটিয়ে উঠে যায় ওপরে এবং আয়নমন্ডল থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে নীচে। মাটি থেকে প্রতিফলিত হয়ে আবার ওঠে ওপরে এবং এভাবে বারংবার লাফ সহযোগে অগ্রসর হয়।গ্রাউন্ড ওয়ালারা বেশি দূরে যেতে পারে না। লম্ফমানেরা কিন্তু হাজার হাজার মাইল দূরেও পৌঁছতে পারে। তাই দূরের দেশের বেতার সম্প্রচার শুনতে হলে শর্ট ওয়েভের শরণাপন্ন হতেই হবে। বেতার তরঙ্গের অন্য উৎস ব্রডকাস্টিং স্টেশন ছাড়া রেডিও ওয়েভের আরও কিছু উৎস আছে। সময় সংকেত প্রদানকারী বেতার কেন্দ্রগুলি সঠিক সময় জানায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাষ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিবিধ তথ্য প্রদান করে থাকে কিছু রেডিও স্টেশন। জলযাত্রার সময় জাহাজ ও উড়ানকালে এরোপ্লেন নিরন্তর বেতারে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোর সাথে যোগাযোগ রেখে চলে। বেতার সংযোগই নিরাপদ রাখে জাহাজ ও এরোপ্লেন চলাচল। অ্যামেচার রেডিও (হ্যাম রেডিও) সহযোগে পৃথিবীর নানা দেশের অধিবাসীদের সাথে সংযোগ স্থাপন একটি জনপ্রিয় হবি।হ্যাম অপারেটরেরা বেতার তরঙ্গের মাধ্যমেই পরস্পরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। কন্ঠস্বর ব্যতিরেকে লিখিত সংকেত (টেক্সট সিগন্যাল), যেমন মর্স কোড অথবা টেলিটাইপরাইটার, প্রেরণ করা হয় রেডিও ওয়েভ দিয়ে। ইলেকট্রিক স্পার্ক থেকেও রেডিও – ওয়েভের সৃষ্টি হয়। লাইট বা ফ্যানের সুইচ অন বা অফ করার সময় কাছাকাছি চালু অবস্থায় থাকা রেডিওতে আওয়াজ হয় এই কারণেই। বাজ পড়লেও একই কারণে রেডিওতে বেতার সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে বেতার তরঙ্গের দৌলতে, কথাটা সকলেরই জানা। তবে, টিভির আবির্ভাব ও প্রসার যে রেডিওকে কোনঠাসা করেছে সেটা মানতেই হবে। দৃশ্যশ্রাব্য মাধ্যম পেলে কে আর শুধুমাত্র শ্রাব্য ব্যাপার নিয়ে খুশি থাকতে চায়! খেলার অনুষ্ঠানের সময়ই শুধু রেডিওর দরকার পড়ে, বছরের অন্য সময় ওটা যে কোথায় আছে তার খোঁজ রাখে না কেউই! যদিও রেডিও স্টেশন গুলি থেকে এখন এফ-এম এর মাধ্যমে গাড়িতে আর সেল ফোনে জনপ্রিয় হয়েছে রেডিওর অন্য রকমের ব্যবহার। বেতার তরঙ্গের বিচিত্র প্রয়োগ রেডিও দূরে সরে গেলেও বেতার তরঙ্গের পরিষেবা আমরা কিন্তু আরও বেশি করে গ্রহণ করে চলেছি। বেতার তরঙ্গের সাহায্যে কাজ করে এমন বহু উপকরণ আমরা প্রায়শই ব্যবহার করে থাকি। রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে খেলনা গাড়ি বা এরোপ্লেন চলতে দেখে কচিকাঁচারাও এখন আর অবাক হয় না। কর্ডলেস ফোন, ব্লুটুথ সমন্বিত ইয়ারফোন বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিন সামগ্রী হামেশাই ব্যবহৃত হচ্ছে। ওয়াইফাই সহযোগে শীতকালে ছাদে রোদ পোহাতে পোহাতেই ল্যাপটপে ইন্টারনেটে কানেক্ট করা এখন নেহাতই সাধারণ ব্যাপার। বন্য জন্তুদের গতিবিধির ওপর নজরদারির জন্য কিছুকাল আগেও বিজ্ঞানীদের প্রচুর ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে ঘুরতে হত। রেডিও কলারের সৌজন্যে কাজটা এখন সহজে এবং নিরাপদে করা সম্ভব হয়েছে। ক্যারাম ঘুঁটির চেয়েও ছোট যে টোকেন মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও নিষ্ক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেটিও কাজ করে বেতার তরঙ্গের সাহায্যেই! রহস্যময় বিজ্ঞান জগত

Please follow and like us:
Post a Comment

Leave a Reply

Translate »
%d bloggers like this: