Posted by admin on Sep 22, 2017
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘রহস্যময় সংকেত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘রহস্যময় সংকেত

Bangladesh and IndiaBorder

Bangladesh and India Border

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে রেডিও’র শ্রোতারা যে রহস্যময় সংকেতগুলো শুনতে পাচ্ছেন, হ্যাম রেডিও ব্যবহার করেই সেইসব সংকেত দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সে কারণে বাংলা ও উর্দু ভাষার সেইসব সংকেতের সুনির্দিষ্ট উৎস শনাক্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হ্যাম রেডিও অপারেটরদেরকেই। অনুসন্ধানের জন্য একটি দলকে দায়িত্ব দিয়েছে ভারত সরকার। অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা নিজেদের রেডিও রিসিভারে শক্তিশালী দিক নির্দেশক অ্যান্টিনা ব্যবহার করে ওই রেডিও সংকেতের উৎস অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন। তবে কাজটা খুব সহজ হচ্ছে না তাদের জন্য।

উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গত কয়েক মাস ধরে সন্দেহজনক সঙ্কেত ও ভাষা শুনতে পাচ্ছিলেন রেডিও ব্যবহারকারীরা। কেবল বাংলা নয়, সেই যোগাযোগে ব্যবহৃত হচ্ছে উর্দু ভাষাও। তবে ঠিক কোনখান থেকে এই যোগাযোগ সম্পন্ন হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট করে তা শনাক্ত করতে পারেননি তারা। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, জঙ্গিরাই অস্বাভাবিক রকমের এ যোগাযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। আর সে আশঙ্কার কারণেই সীমান্তে সার্বক্ষণিক হ্যাম রেডিও তথা অ্যামেচার রেডিও অপারেটর মোতায়েন করেছে ভারত। বেঙ্গল অ্যামেচার রেডিও ক্লাবের ২৩ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গত কয়েক মাস ধরে সন্দেহজনক সংকেত ও ভাষা শুনতে পেয়ে ডাকা হয়েছিল বেঙ্গল অ্যামেচার রেডিও ক্লাবের সদস্যদের। তারাও ওই রেডিও সংকেত শুনতে সক্ষম হন। এখন তারা সংকেতের উৎস অনুসন্ধানের চেষ্টা করবেন। কিন্তু কিভাবে? আসলে শনাক্তকরণের ওই প্রযুক্তি তাদের নিজেদের সঙ্গেই থাকে। ব্যবহারীরা প্রত্যেকেই এটা শনাক্তে সক্ষম হন।
বেঙ্গল অ্যামেচার রেডিও ক্লাব-এর সচিব আম্বারিশ নাগ বিশ্বাস ওইসব রহস্যময় সঙ্কেতের প্রসঙ্গে পিটিআইকে বলেন, ‘এ ঘটনাটি খুব সন্দেহজনক এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকিজনক। কারণ, যখনই আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ করার চেষ্টা করি তারা কথা বলা বন্ধ করে দেয়। আবার কিছু সময় পর তারা বাংলা ও উর্দু ভাষায় নিজেদের যোগাযোগ শুরু করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে যোগাযোগ করছিল তাদের বাংলাদেশি বাচনভঙ্গিটা স্পষ্ট ছিল। আমি আমার রেডিও ক্লাব মেম্বারদেরকে সতর্ক করলাম এরপর তারাও একই ধরনের আলাপ শনাক্ত করতে পারল। গত জুনে এ ধরনের যোগাযোগ শুরু হয়েছিল। আর তা দুর্গাপূজা পর্যন্ত ছিল।’
আম্বারিশ জানান, সিগন্যালগুলো শনাক্ত হওয়ার পর তারা কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে খবরটি অবহিত করেন। পরে কলকাতায় আন্তর্জাতিক মনিটরিং স্টেশনের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে তাদেরকে ডাকা হয়। সেখানে হ্যাম অপারেটররা তাদের প্রাপ্ত তথ্য ও শঙ্কাগুলো প্রকাশ করেন। এরপরই তাদেরকে এ সন্দেহজনক যোগাযোগের উৎস শনাক্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আসলে হ্যাম রেডিও হলো একটি নিজস্ব রেডিও স্টেশন। যেখানে মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল, ইন্টারনেট সংযোগও নেই, সাধারণত এমন জায়গায় হ্যাম অপারেটর ব্যবহার করা হয়। হ্যাম রেডিও মূলত অপেশাদারী ও অমুনাফাভিত্তিক আন্তর্ব্যক্তিক যোগাযোগের এক রেডিও সম্প্রচারব্যবস্থা। একটি বেতারযন্ত্র দিয়ে অন্য একটি বেতারযন্ত্রে বিনামূল্যে কথা বলা বা তথ্য আদান-প্রদানই হলো হ্যাম রেডিও অপারেটরদের কাজ। এক্ষেত্রে তাদের কোনও ইন্টারনেট সংযোগ লাগে না এবং সেল ফোনেরও দরকার হয় না। এই অপারেটররা পাহাড়ের চূড়া, নিজের বাসা অথবা গাড়িতে বসে বিশ্বের যেকোনও জায়গায় অন্য হ্যাম অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। চাইলে মহাকাশযানের নভোচারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন হ্যাম অপারেটররা।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের রহস্যভেদে অনুসন্ধানকারী দলটি রেডিও রিসিভারে থাকা সংকেতের শক্তিমাত্রা নির্ধারক অ্যাটিন্যাটর ব্যবহার করছেন। রেডিওর রিসিভারে০ সঙ্গে উচ্চ ক্ষমতার দিকনির্দেশক অ্যান্টেনা লাগিয়ে নিয়েছেন তারা। এইসব প্রযুক্তিতেই ওই রহস্যময় সংকেতের উৎস অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে।
সাধারণভাবে হ্যাম রেডিও অপারেটরদের সংকেত অনুসন্ধানের এই প্রযুক্তি খুব বেশি শক্তিশালী হয় না। মাত্র কয়েকশো মিটার দূরত্বে সংকেত পাঠাতে ও গ্রহণ করতে সক্ষম হয় এইগুলো। তাই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুসন্ধানকারীদের কাজ সহজ হচ্ছে না। আর এজন্য ওই অনুসন্ধানী দলটিকে নির্দিষ্ট স্থানে সর্বদা ঘুরে ঘুরে অনুসন্ধান চালাতে হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিগন্যাল আইডেন্টিফিকেশন গাইড।

Please follow and like us:
Post a Comment

Leave a Reply

Translate »
%d bloggers like this: